ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ধাক্কায় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ ও আফগান শরণার্থীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব ইয়ান এগেল্যান্ড। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে এবং মানবিক প্রয়োজন আরও বেড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ান এগেল্যান্ড বলেন, তিনি আবার ইরানে ফিরেছেন। সেখানে ইরানি পরিবার ও আফগান শরণার্থীদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব নিজ চোখে দেখেছেন।
ইয়ান এগেল্যান্ড বলেন, “আমি আবার ইরানে ফিরেছি, যেখানে সাম্প্রতিক যুদ্ধে লাখ লাখ ইরানি বেসামরিক মানুষ ও আফগান শরণার্থীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও ক্ষতির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মানবিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও জানান তিনি।
এনআরসি মহাসচিব বলেন, যুদ্ধের সময় আনুমানিক ৩২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তাদের মধ্যে ইরানি নাগরিকদের পাশাপাশি আফগান শরণার্থীরাও রয়েছেন। তবে অনেকেই নিরাপদে সরে যেতে পারেননি। তারা বিমান হামলার কাছাকাছি এলাকায় আটকা পড়ে ছিলেন।
ইয়ান এগেল্যান্ড আরও জানান, লড়াই চলাকালে হাজার হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইরানে কর্মরত এনআরসি কর্মীরা সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ইয়ান এগেল্যান্ড। তবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এখানে আমার এনআরসি সহকর্মীরা জরুরি সহায়তা দিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। কিন্তু আমরা মারাত্মকভাবে চাপের মধ্যে আছি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন পাচ্ছি না।”











