spot_img
spot_img

ইরানের আর হামলা চালাবে না আমেরিকা: রুবিও

ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো ধারাবাহিক সামরিক হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া কয়েক মাসের সংঘাতের পর মার্কিন সামরিক হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে।

বুধবার (৩ জুন) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এখন আর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে দেশটির ভেতরে ধারাবাহিক ও অনবরত হামলা চালাচ্ছে না।

আইনপ্রণেতাদের সামনে রুবিও দাবি করেন, এই সামরিক অপারেশন ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ঘাঁটির একটি বড় অংশ ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ড্রোনের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার সময় রুবিওর এই বক্তব্য সামনে এলো।

এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার অংশ হিসেবে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বড় ড্রোন হামলা আঘাত হানে। এতে বিমানবন্দরের একটি যাত্রীবাহী টার্মিনাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হন।

এই ভয়াবহ হামলার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে, যারা আগে নিজেদের এই সংঘাত থেকে নিরাপদ মনে করেছিল, সেই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়েও নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

ইরান এখনো বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজস্ব সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, আমেরিকাও ইরানের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য এটিকে “চূড়ান্ত অংশ” হিসেবে বর্ণনা করেন।

রুবিও আইনপ্রণেতাদের আরও আশ্বস্ত করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির মতো কোনো দুর্বল চুক্তি আবার হতে পারে কি না, এমন উদ্বেগের জবাবে রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তি অবশ্যই আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে।

যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা যদি কোনো চুক্তি করেন, তাহলে তা হবে একটি ভালো ও শক্তিশালী চুক্তি। অন্যথায় কোনো চুক্তিই হবে না। আর এটি নিশ্চিতভাবেই জেসিপিওএ-এর চেয়ে অনেক ভালো হবে, যে চুক্তি থেকে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বের হয়ে এসেছিলেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ