spot_img
spot_img

ঐতিহাসিক হিজাজ রেলপথ সক্রিয় করতে তুরস্ক-সৌদি আরবের উদ্যোগ

ঐতিহাসিক হিজাজ রেলপথ আবার সক্রিয় করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। পরিবহন, রেল ও লজিস্টিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দুই দেশ এ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঐতিহাসিক এই রেলপথ আধুনিকায়ন করে তা ওমান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে চায় তুরস্ক। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট গড়ে তোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটন ও আধুনিক ট্রানজিট ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু জানিয়েছেন, পরিবহন ও রেল খাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে তুরস্ক ও সৌদি আরব পরিবহন ও লজিস্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এনসোসিয়ালে দেওয়া এক বার্তায় উরালোগলু বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে আমরা একটি নতুন ধাপ শুরু করছি। এর মাধ্যমে লজিস্টিক সেন্টার থেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োগ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কারিগরি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বলেন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ খাতে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ও টেকসই কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশ রেল খাতেও যৌথ প্রচেষ্টা এগিয়ে নিচ্ছে।

উরালোগলু আরও বলেন, “আমাদের অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, বাণিজ্য ও উন্নয়নে অবদান রাখবে, এমন এই পদক্ষেপগুলো আমাদের দুই দেশের জন্য স্থায়ী সুফল বয়ে আনুক।”

তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তিতে সই করেছেন তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু এবং সৌদি আরবের পরিবহনমন্ত্রী সালেহ বিন নাসের আল-জাসের।

উরালোগলু বলেন, “২০১২ সালের আগে আমাদের দ্বিপক্ষীয় পরিবহন চলাচলের বার্ষিক সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছেছিল। আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বর্তমানে আমরা সেই সংখ্যার নিচে থাকলেও আমাদের লক্ষ্য হলো, সহযোগিতাকে ওই মাত্রারও ওপরে নিয়ে যাওয়া।”

এই প্রেক্ষাপটে সিরিয়া-জর্ডান-ইরাক রুটের অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দুই দেশ। উরালোগলু বলেন, “তুরস্ক থেকে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত পরিচালিত দুটি পরীক্ষামূলক যাত্রা এই রুটের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।”

লজিস্টিক সেবা খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো লজিস্টিক সেন্টার নির্মাণ, সেবা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ কার্যক্রম উন্নয়ন সহজতর করা।

অন্যদিকে রেল খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো রেল খাতের সব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।

চলতি মাসের শুরুতে উরালোগলু জানিয়েছিলেন, তুরস্ক ঐতিহাসিক হিজাজ রেলপথ আধুনিকায়ন করে তা ওমান পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট তৈরি করতে চায় দেশটি।

তিনি বলেন, পর্যটন ও আধুনিক ট্রানজিট, উভয় উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক এই রেলপথ সক্রিয় করতে চায় তুরস্ক। প্রাথমিক ধাপে তুরস্ককে আলেপ্পোর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আলেপ্পো-দামেস্ক-জর্ডান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হবে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ