ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বাংলাদেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে চাইলে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে চান। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বা অন্য কোথাও তার ওপর কোনো ধরনের হামলা কিংবা মব হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই সেটি হবে।
তবে সাকিবের ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সাকিব ভালো খেলোয়াড় হলেও ব্যক্তি হিসেবে তিনি ‘নষ্ট, পচে যাওয়া মানুষ’। যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং এখনো আছেন।
গত ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময়ও সাকিবের বক্তব্য এসেছে। তবে তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সাকিবের এ ধরনের সাক্ষাৎকার ও বক্তব্যকে তিনি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে একে ‘প্রপাগান্ডা’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
সাকিব ইস্যুর পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন বলে তিনি আগেও একাধিকবার উল্লেখ করেছেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তিনি পূর্ণ নিরাপত্তা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার পাবেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সবাইকে তা মেনে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ‘ফ্যাসিস্ট মাফিয়া রেজিম’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেশের সবচেয়ে বীভৎস অপরাধীও তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।
এই নীতি সাকিব আল হাসান ও শেখ হাসিনা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।










