spot_img
spot_img

মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার মা; ধর্ষক অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গণ গ্রেফতার

নাটোর জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মা। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ধর্ষক অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৯ জুন) রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, নাটোর সদরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে সর্দি-জ্বর আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমিত ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুর মাকে ডাকেন। পরে কৌশলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ির ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় মা কাছে থাকায় শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ওই নারীকে খুঁজতে থাকেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয়তলার সিঁড়ির ঘর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তদের আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতা-কর্মীর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় তার উপস্থিতির যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়। তারপরও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’

নাটোরের সিভিল সার্জন ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বিষয়টি কোনো পক্ষই তাকে জানায়নি। তারপরও লোক মুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়।’

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, ‘মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ