বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বর্তমানে কোনো জোটের সঙ্গে নেই বলে জানিয়েছেন দলটির আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক জোটের তালিকায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা সঠিক নয়।
বুধবার (১০ জুন) বাদ জোহর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এককভাবে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের আগে জুলাই শহীদ ও শাপলা শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিসহ কয়েকটি ইস্যুতে দলটি যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। তবে নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন কোনো জোটে অংশ নেয়নি।
তিনি বলেন, ইসলাম, মুসলমান ও দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতে মুসলমানদের মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয়দের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে বিশালাকৃতির শিবমূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে দেশে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।
দেশ ও ইসলাম রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে কালেমায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, হক্কানি আলেমদের নেতৃত্বে কালেমায় বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
বৈঠকে গাইবান্ধায় স্থাপিত শিবমূর্তি অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন করে শিক্ষাঙ্গনে সংগীত ও নৃত্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি যুব ও তরুণ সমাজকে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দেবে। দেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা এ ধরনের উদ্যোগ মেনে নেবে না।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস, হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা সাজিদুর রহমান ফয়েজী, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, মাওলানা আশরাফুজ্জামান পাহাড়পুরী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি আব্দুল বারী, হাজী শাহজাহান, মুফতি কামরুল ইসলাম, মৌলভী আব্দুর রকীব, মুফতি আখতারুজ্জামান আশরাফী, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা সালাহউদ্দিন জয়নাল, মুফতি কারী সিদ্দিকুর রহমান, মুফতি আলামিন ও আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।











