spot_img
spot_img

ভারতকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়: মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত হতে না পারব এবং ভারতকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারব; ততক্ষণ পর্যন্ত এ দেশের প্রকৃত কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বুধবার (১১ জুন) রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কাশেমনগর আদর্শগ্রাম ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন কমিটি ও আল-হেরা যুবকল্যাণ পরিষদ কাশেমনগরের উদ্যোগে এই ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কাশেমনগর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন।

মাহফিল পরবর্তী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী জোট গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে একটি প্ল্যাটফর্ম বা বাক্সের ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং সবাইকে আহ্বান করেছিলাম। দেশের জাতীয় স্বার্থে এবং ইসলামের পক্ষে যারা আমাদের সঙ্গে আসবে, আমরা তাদের সঙ্গেই ঐক্যবদ্ধ থাকব। তবে কেউ যদি না আসে, প্রয়োজনে আমরা একাই পথ চলার চেষ্টা করব।

বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতা বা জোট করার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি তা নাকচ করেন।

সরকারের তিন মাসের সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়; কিন্তু বর্তমানে দেশে খুন, গুম এবং মারাত্মকভাবে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।

জনগণের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গ্যাস, তেল ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বারবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অবিলম্বে বর্ধিত গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল কমিয়ে আনা হোক এবং অন্তত ১০ বছর আগের মূল্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক।

বৈদেশিক নীতি ও সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে শায়েখে চরমোনাই বলেন, বর্তমানে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। জাতিসংঘে ভোটের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের শত্রু কারা আর কারা বন্ধু। অথচ যাদের আমরা বন্ধু মনে করেছি, তারা আমাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ