spot_img
spot_img

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় জমিয়তের

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাসসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খাস কমিটির বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন।

জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী কষ্টের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, গোশত, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনা জনগণের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটের একটি বড় অংশই ঋণনির্ভর। এতে ভবিষ্যতে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ স্বস্তিদায়ক হলেও অধিক ঋণনির্ভরতায় এই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তারা বলেন, পণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি ঋণের ভার কমিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জমিয়তের নেতারা বলেন, শুধু কর হ্রাস করলেই হবে না, এর সুফল যেন ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। অসাধু মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষক, উৎপাদক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি স্থিতিশীল বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি উন্নত, দক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ দুটি খাত পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে নানা সংকটে ভুগছে। তাই ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনে করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল তখনই জনগণের কাছে পৌঁছাবে, যখন বাজারে স্থিতিশীলতা, শিক্ষায় মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

জমিয়ত নেতৃবৃন্দ জাতীয় বাজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা প্রদানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে এ সুবিধা যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য ও প্রকৃত হকদার ব্যক্তিদের কাছে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, সহ-সভাপতি মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদদীন জাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হক আজীজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ