spot_img
spot_img

হামলা বন্ধে ইরানকে বিলিয়ন ডলার দিল আমিরাত: রয়টার্স

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়েছে দেশটি। ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া উপসাগরীয় দেশটির জন্য এটি এক নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন। এর আগে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আমেরিকার কাছে তদবির করেছিল আমিরাত।

শুক্রবার (১২ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ইরানকে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার দিয়েছে। আঞ্চলিক দুটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির অর্থের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অন্য দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইরানকে ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি ডলার দেবে আমিরাত।

প্রতিবেদনটি আবুধাবির জন্য ঘটনাপ্রবাহের এক বিস্ময়কর পরিবর্তন তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধ থেকে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে।

যুদ্ধ চলাকালে আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ঠেকানোরও চেষ্টা করেছিল দেশটি।

পাকিস্তান আলোচনার আয়োজন করায় শাস্তি হিসেবে ইসলামাবাদের কাছে বকেয়া ঋণ পরিশোধের দাবি তোলে আমিরাত। এরপর পাকিস্তানকে নতুন করে ঋণ দিতে হয় সৌদি আরবকে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। পরে ইসরাইল ও আমিরাত যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য একটি তহবিল গঠনের চুক্তি চূড়ান্ত করে।

গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যদের আতিথ্য দেয়। তারা আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপশাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আইআরজিসির ওই কর্মকর্তারা শেখ তাহনুনের অতিথিশালায় অবস্থান করেন।

উত্তেজনা কমাতে চলতি সপ্তাহে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য কূটনীতিকদেরও পাঠিয়েছে আমিরাত। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিক মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, তার সরকার মনে করে, আমিরাতে যেন হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কঠিন আঘাত

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি যখন পরীক্ষার মুখে, তখন গত কয়েক সপ্তাহে ছোট ও তুলনামূলক দরিদ্র কয়েকটি আরব দেশ হামলার শিকার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষণীয়ভাবে এসব হামলা থেকে রেহাই পেয়েছে। আমেরিকার হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে।

ইরানকে দেওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই সব হিসাব থেকে এসেছে কি না, যেগুলো জব্দ করার কথা আবুধাবি বিবেচনা করেছিল, নাকি আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে, রয়টার্স তা জানায়নি।

কয়েক দশক ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এতে বোঝা যায়, দুই দেশের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সেই বিরোধের সীমা অতিক্রম করেছে। আমিরাতের আবাসন বাজারেও ইরানিরা বড় ভূমিকা পালন করেন।

আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক বিলিয়ন ডলার জব্দ করার কথা বিবেচনা করেছিল আমিরাত। তবে দেশটি শেষ পর্যন্ত সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেছিল কি না, তা কখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

বুর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসফান্দিয়ার বাতমানগেলিদজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই চুক্তি সম্ভবত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় সক্রিয় করার প্রথম পদক্ষেপ।

তিনি লিখেছেন, “সবাইকে মনে রাখতে হবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতই ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইরানের জন্য অর্থ ‘ছাড়’ করার মাধ্যমে আমিরাত নিশ্চিত করছে, ওই অর্থ আমিরাতেই ব্যয় হবে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “উভয় দেশ অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বহুগুণ প্রভাবের ওপর আরও জোর দেবে।”

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরান যে আর্থিক প্রতিদান চাইছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা পাওয়ার একটি পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করতে পারবে, তারা কোনো অর্থ দেয়নি।

আমেরিকার সাবেক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার বিস্তৃত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফলে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিজের অতিথিশালায় আইআরজিসির কর্মকর্তাদের আতিথ্য দিচ্ছেন, অথচ ওয়াশিংটন তা জানত না, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এমন সময় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে, যখন হরমুজ প্রণালী ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালাতে আমেরিকা ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনের পর রয়টার্সের এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, ইরান যেন সেখানে আর কোনো হামলা না চালায়, তার বিনিময়ে কাতার তাদের রাস লাফান শোধনাগার বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। তবে কাতার দাবি করেছে, শোধনাগার বন্ধের বিষয়টি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ