আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সবার স্বার্থের স্বীকৃতির মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে উপেক্ষা করে কিংবা বাদ দিয়ে কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
রোববার (১৪ জুন) ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক কর্মী ও গণসমাবেশ আয়োজকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আব্বাস আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং সবার স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বৈঠকে তিনি দেশের কৌশলগত অগ্রগতি এবং শত্রুদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার পেছনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমঞ্চে ইরানের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। জাতীয় সংহতি, ইরানি জনগণের সহনশীলতা এবং দেশের ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষের সচেতন উপস্থিতিই ইরানের আসল শক্তি।
১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইসরাইলি আগ্রাসনের মোকাবিলায় দেশের অর্জনের কথা তুলে ধরে আরাগচি বলেন, ইরান শুধু রণক্ষেত্র কিংবা কৌশলগত দিক থেকেই জয়ী হয়নি, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক ও কৌশলগত ফলাফলও অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, এই সফলতার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এ অঞ্চলের সব দেশের অংশগ্রহণ এবং যৌথ সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে হবে। ইরান বরাবরই এমন ব্যবস্থাকে সমর্থন করে আসছে এবং এর দাবি জানিয়ে আসছে।
**সূত্র: তাসনিম নিউজ**











