টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২ লাখের অধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে খাওয়ার স্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের কাছে বন্য পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাঁশখালী উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও বিতরণ করলেও এগুলো পর্যাপ্ত নয়। আরও অনেক বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। তবে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনও।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য মতে, উপজেলার পুইছড়ি, ছনুয়া, শেখারখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, শীলকুপ, পৌরসভা, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছাড়া ও পুকুরিয়া এলাকায় ৮০ শতাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে আছে। ৫ শতাধিক কাঁচামাটির তৈরি বসতবাড়ি ভেঙে গেছে।
অতি ঝুঁকিতে আছে উপজেলার পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, বৈলছড়ি, পৌরসভা, কালিপুর, সাধনপুর, গন্ডামারা, বাহারছাড়া ও খানখানাবাদ।
সমাজকর্মী কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, টানা বৃষ্টির পানি, অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি প্রবেশ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁশখালীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বেশিরভাগ মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এনজিও কর্মী কল্যাণ বড়ুয়া জানান, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের পর্যাপ্ত সংকট রয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা জানান, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীবাসীর অবস্থা ভয়াবহ। বসতবাড়ির পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকদের শাকসবজি ও বীজতলা। দেশের বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের যে যার মতো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।










