ফিলিস্তিনে গণহত্যা নিয়ে নীরব মানবাধিকার সংস্থাগুলো আফগানিস্তান নিয়ে অতিরঞ্জন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধবিষয়ক মন্ত্রী মাওলানা খালিদ হানাফি।
তিনি বলেন, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে হত্যা করা হলেও এসব সংস্থা নীরব থাকে। অথচ আফগানিস্তানের ঘটনাগুলো তারা অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরে।
সোমবার (১৩ জুলাই) হেরাত প্রদেশে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ আইন বাস্তবায়নবিষয়ক এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খালিদ হানাফি বলেন, নির্বাসিত কয়েকটি গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করছে এবং নেতিবাচক অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্দেশনায় কাজ করছে এবং আফগান জনগণকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “কিছু মানুষ ভুয়া গণমাধ্যম ব্যবহার করে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নেতিবাচক অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাসিত কিছু ভাড়াটে ব্যক্তি নিজেদের দেশ, ঈমান, আদর্শ ও জাতিকে বিক্রি করেছে। তারা এখনো ভাড়াটে হিসেবেই জীবনযাপন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা বিদেশে বসে মানুষকে উসকে দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তারা দাবি করে, হেরাতে নিপীড়ন ও নিষ্ঠুরতা চলছে, নারীদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ের নামে নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে।”
হানাফি বলেন, এই আইন পবিত্র কুরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আইনটি বাস্তবায়ন করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ আইনের একটি ধারাও যদি শরিয়াহবিরোধী হয়, তাহলে সবার আগে আমিই জবাবদিহির মুখোমুখি হব। এই সম্মানিত আলেমদের সামনে আমরা পুরো বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই আইনে কী রয়েছে? এতে নারীদের পর্দা করার বলা হয়েছে এবং পুরুষদের ইসলামি ব্যবস্থা, শরিয়াহ ও সুন্নাহ অনুযায়ী চলতে বলা হয়েছে। এই আইনে শরিয়াহবিরোধী কিছুই নেই।”
খালিদ হানাফি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানে ইসলামি নীতিমালার কাঠামোর মধ্যে মানবাধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ আইন বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবন উন্নত হবে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।
হেরাতের গভর্নর শায়খ নূর আহমদ ইসলামজার বলেন, প্রত্যেক মুসলমানই আল্লাহর আইন বাস্তবায়িত হতে দেখতে চায়। ইমারাতে ইসলামিয়া শরিয়াহ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করে না, তবে তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন ধর্মীয় আলেম ও গোত্রীয় প্রবীণ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধবিষয়ক পরিদর্শকদের মানুষের সঙ্গে সদয় ও সম্মানজনক আচরণ করার আহ্বান জানান।
সূত্র: তোলো নিউজ










