আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে বলে যারা অভিযোগ করছে, তাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছেন পাখতুনখাওয়া মিল্লি আওয়ামি পার্টির (পিকেএমএপি) চেয়ারম্যান মাহমুদ খান আসাকজাই। একই সঙ্গে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে চাপ ও সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে আঞ্চলিক সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, চীন, ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অংশগ্রহণে একটি সম্মেলন আয়োজন করা উচিত। কেউ যদি দাবি করে, আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, তাহলে তাকে অবশ্যই প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় আমরা এ ধরনের অভিযোগ সমর্থন করি না।”
রোববার (১২ জুলাই) পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরের অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদ খান বলেন, চাপ প্রয়োগ কিংবা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই দুই দেশের বিরোধের সমাধান করতে হবে।
আচাকজাই প্রস্তাব করেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন, ইরান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিক জাতিসংঘ।
তিনি বলেন, ওই সম্মেলনে সব পক্ষকে নিজেদের নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্বেগ নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে এ সম্মেলন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করতে সহায়তা করবে।
এদিকে কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে অব্যাহত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উত্তেজনা কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, বিরোধের সমাধান এবং নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্বেগ মোকাবিলায় সংলাপ, কূটনীতি ও যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফয়েজ সাফি বলেন, “জাতিসংঘ সনদে দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষের উচিত সততার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা এবং একে অপরের অধিকার ও দায়িত্ব স্বীকার করা।”
অন্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, কাল্পনিক ডুরান্ড রেখা বরাবর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম প্রতিরোধে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, “এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুর রহমান শামাল বলেন, “আফগান সরকার ও পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ, উভয় পক্ষকেই বিষয়টির স্পর্শকাতরতা উপলব্ধি করতে হবে। কাল্পনিক ডুরান্ড রেখার উভয় পাশে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে এ অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া না হয়।”
সূত্র: তোলো নিউজ










