গাজ্জা উপত্যকায় ইসরাইলের চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নিজের ‘ভালো লাগছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। একই সঙ্গে গাজ্জায় হুমকি দূর করার লক্ষ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞকে একটি ‘পরিকল্পিত নীতির’ ফল বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে কাৎজের এই মন্তব্য তুলে ধরা হয়।
গাজ্জার ধ্বংসস্তূপ দেখে কেমন লাগছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কাৎজ বলেন, ‘ভালো লাগছে, তাই না?’
তিনি দাবি করেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং গাজ্জা থেকে হুমকি দূর করতে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত নীতির ফল।
ইসরাইলের আগের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে কাৎজ বলেন, ‘আগে আমরা গাজ্জায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আবার চলে আসতাম। এখন সেই নীতি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের সেনাবাহিনী ভেতরে অবস্থান করছে, সন্ত্রাসীরা বাইরে আছে এবং ঘরবাড়িগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’
চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উত্তর গাজ্জায় স্থায়ীভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রস্তাব।
কাৎজ জানান, উত্তর গাজ্জায় তিনটি ‘নাহাল আউটপোস্ট’ বা সামরিক ঘাঁটি-সংযুক্ত বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
২০০৫ সালে গাজ্জা থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি প্রত্যাহারের আগে উত্তর গাজ্জায় এসব স্থাপনার অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকভাবে ‘নাহাল আউটপোস্ট’ বা সামরিক বসতিগুলোকে পরবর্তী সময়ে বেসামরিক ইহুদি বসতিতে রূপান্তর করা হয়ে থাকে।
কাৎজ দাবি করেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ এবং নিকটবর্তী এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজ্জায় ইসরাইলের চালানো হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া ইসরাইলি হামলায় গাজ্জা উপত্যকার প্রায় ৯১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি










