চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত ১০০ পরিবারে ৪ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে আলেমদের দ্বীনি ও সমাজসেবামূলক সংগঠন ওলামা কল্যাণ পরিষদ।
সোমবার (২০ জুলাই) বাঁশখালী উপজেলার বাঁশখোলা পৌরসভা, ছনুয়া, ইলশা, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুফতী ওসমান সাদেক বলেন, সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার শিকার হয় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল। দ্বীনি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় আলেমদের দ্বীনি ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ওলামা কল্যাণ পরিষদ। ৪ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যায় তাদের পুনর্বাসনে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা বাঁশখালীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, উপজেলাটির বাঁশখোলা পৌরসভা, ছনুয়া, ইলশা, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের ১০০ পরিবারকে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের পাশাপাশি আলেমদের প্রতি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখা হয়।
এছাড়াও জানান, স্থানীয় আলেমগণ, বিশেষত, ইলশা মদিনাতুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান, বাহারছড়া সুলতানুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আহমদ হোসাইন আজিজী, চাপাছড়ি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাদি.) মাদরাসার মুহতামিম ক্বারী ইউসুফ সাঈদ আমাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। সহায়তা থেকে বঞ্চিত আলেম-ওলামা ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সহায়তা পাননি এমন লোকজনকে খুঁজে পেতে সহায়তা করেন।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মুনিরুদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের ওলামা টিম বন্যা কবলিত বাঁশখালী গিয়ে পৌঁছলে স্থানীয় এই আলেমগণ তাদের অভ্যর্থনা জানান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাওলানা মুনিরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের এই টিমে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, সাধারণ সম্পাদক মুফতী ওসমান সাদেক, অর্থ সম্পাদক মাওলানা এরশাদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা ক্বারী আব্দুল হাকিম, কার্যকরী কমিটির সদস্য মাওলানা সাদেক হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, মুফতী হিজবুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার শাহ, প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জুলাই মাসের শুরু থেকে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উজানের আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে বান্দরবান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় এবার বন্যা দেখা দেয়। তন্মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষত, পুরো বাঁশখালী উপজেলা প্লাবিত হয়। এটিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা বলেও আখ্যায়িত করা হয়।










