আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের জন্য আমেরিকার ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই।
মামদানি বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজ্জা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মামদানি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এ ঘটনার দায় থেকে আমেরিকাও মুক্ত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজ্জায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’
মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে আমেরিকার ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’
নিউইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মামদানি।
তার ভাষায়, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’
এদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমেরিকায় অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজ্জা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
সূত্র: আনাদোলু










