ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকাকে শাস্তি দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে বাহিনীটি বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার বহুস্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ঘণ্টার জন্যও হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে পারেনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি এসব কথা বলেন।
মোহেবি বলেন, পারস্য উপসাগরে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পর আমেরিকা আশা করেছিল ইরান আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু তার বদলে ওয়াশিংটন ইরানের ভিন্ন ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
সর্বশেষ বিনা উসকানিতে চালানো মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ১০০ দফা সফল ও সিদ্ধান্তমূলক পাল্টা হামলার কথাও উল্লেখ করেন মোহেবি। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে আমেরিকা বাধ্য হওয়ার পরও দেশটির পক্ষ থেকে করা লঙ্ঘনের জবাবে ইরানি সেনাদের পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র সেই বিজয়কে ‘স্থায়ী কৌশলগত প্রতিরোধে’ রূপ দিচ্ছে।
মোহেবি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা আমেরিকার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল। কিন্তু আগ্রাসনের সময় ওয়াশিংটন সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খোলা থাকার দাবি করেছিল। কিন্তু এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে।
মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে ১০০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করত। এখন শুধু ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের তেলবাহী জাহাজকে প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তাও তেহরানের অনুমতি নিয়ে।
আমেরিকার সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের দাবির বিষয়েও কথা বলেন মোহেবি। তিনি বলেন, নিজেদের সক্ষমতার একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ওয়াশিংটন প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে আমেরিকার উন্নত বিমান, নৌ ও স্থল সামরিক সরঞ্জাম ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলার মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি। মোহেবি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকাকে শাস্তি দেওয়া বন্ধ করবে না ইরান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বহুস্তরের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার সক্ষমতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর রয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য ইরান তার শর্তগুলো জানিয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হতে চাইলে ওয়াশিংটনকে তেহরানের শর্ত মেনে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
রেজাই বলেন, এসব শর্ত আগের শর্তগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনায় যাবে না এবং হরমুজ প্রণালীও পুনরায় খোলা হবে না।
তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো আমরা কিছু শর্তের কথা বলতে পারি। রেজাই জানান, পাকিস্তান, কাতার ও ইরাক জানতে চেয়েছিল ইরানের শর্ত কী। তারা বলেছিল, আমেরিকানরা তাদের শর্তগুলো লিখিত আকারে দিতে বলেছে। তাই আমরা তা লিখিতভাবে দিয়েছি। আজ ইরানের শর্তগুলো পাকিস্তান ও কাতারের হাতে রয়েছে।
এর আগে ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির কিছু শর্তের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর আমেরিকার অবৈধ নৌ অবরোধের অবসান কার্যকর করা।
সূত্র : প্রেসটিভি











