spot_img

এবার পর পাল্টা হামলা স্থগিত করল ইরান

আমেরিকার বিমান হামলা বন্ধ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্থগিত করেছে ইরান। তবে আমেরিকার এ বিরতিকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হিসেবে না দেখে সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আমেরিকা অতীতে কূটনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত হামলা চালানোর পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় পেন্টাগন। এরপর থেকে আমেরিকার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও কোনো হামলা চালায়নি ইরান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একদম স্পষ্ট। হামলার জবাব হবে হামলায়। হামলা বন্ধ থাকলে ইরানও হামলা বন্ধ রাখবে। এই বার্তা ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনীতির সুযোগ তৈরি করতেই ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের আরেক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে ইরানে নির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত কমে আসায় পরবর্তী বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

তবে আমেরিকার এ পদক্ষেপকে কৌশলী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন ইরানি বিশ্লেষকেরা। তেহরানের একটি সূত্রের দাবি, সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনের অনেকের মধ্যেই স্থায়ী সমাধানের বদলে সংশয় কাজ করছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সামরিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ