আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনায় আফগানিস্তান আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটির পরিস্থিতি, শান্তিপূর্ণ পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন চীন ও তুরস্কের কর্মকর্তারা।
আফগানিস্তানবিষয়ক চীনের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মহাপরিচালক জিহাদ এরগিনাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, দেশটির শান্তিপূর্ণ পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইউয়ে শিয়াওইয়ং এ তথ্য জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফায়াজ সাফি বলেন, এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, দোহা প্রক্রিয়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনসহ আফগানিস্তান সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে চীন ও তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে প্রভাবিত করার মতো অবস্থানে রয়েছে উভয় দেশ।’
এদিকে ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ টোলো নিউজকে বলেছেন, আফগানিস্তান নিয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার আলোচনা ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি এ অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে কাবুলের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আঞ্চলিক আলোচনা, বিশেষ করে শক্তিশালী অর্থনীতি ও অধিক সক্ষমতাসম্পন্ন প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যকার আলোচনা আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আঞ্চলিক সমর্থন প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত রাজনৈতিকভাবে এ স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করা এবং তা রক্ষা করা। কারণ এ স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সংহতিতে অবদান রাখে। আফগানিস্তান এ অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়।’
একই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আফগানিস্তান নিয়ে চীন, তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শ বাড়লে আঞ্চলিক বিষয়াবলিতে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নাজিবুর রহমান শামাল বলেন, ‘আফগানিস্তানে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে চীন, তুরস্ক এবং ইউরেশিয়ার অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনা দেশটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।’
সূত্র: তোলো নিউজ










