ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া এবং সেখানে তাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর জেরে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে পতিত আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।
বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র ৮ আগস্ট এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের আর কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে।
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সংস্থা বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৪ জুলাই ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার পর ভারতের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।
এ ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারত একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইবে, এ দুটি বিষয় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দেওয়া কোনো বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করে না।
সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ হয়নি। সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এদিকে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য হিন্দু’র কূটনীতিবিষয়ক সম্পাদক সুহাসিনি হায়দারও বিদ্যমান পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর ভারতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।










