ইরানের ওপর আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ঠিক কী কী থাকবে, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট তথ্য দেয়নি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বা অন্য কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোও আমেরিকার অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে পারে।
গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা মিত্র ও অন্য পক্ষগুলোকে আমেরিকার পক্ষে অথবা বিপক্ষে, যেকোনো একটি অবস্থান বেছে নিতে হবে।
তার এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশ ও পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রীর এসব বক্তব্যের মধ্যেই দেশটির অন্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কাজ করছে।
ট্রেজারি মন্ত্রীর বক্তব্যের আরেকটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের দিকে এগোচ্ছে। তার এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অন্যতম লক্ষ্য দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এমন অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছেন, এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে ট্রেজারি মন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপের লক্ষ্য শুধু দেশটির নীতি বা অবস্থান পরিবর্তন করা নয়, বরং ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনাও এর একটি লক্ষ্য।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন প্রশাসন বলেছিল, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল না।
নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ না হওয়ায় এর পরিধি ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পুরোপুরি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।










