আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের সূচনা হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
নেতারা বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করাসহ দেশে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এ কারণেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকার যেন এদিক-সেদিক না করে। সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে এগোচ্ছে। এটি সরকারের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না বলেও সতর্ক করেন তারা।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে দেশবাসী অংশ নিয়েছিল, তারাই লংমার্চে অংশ নেবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচি সফল করবে। সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।
তাদের অভিযোগ, সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, চাঁদাবাজির ভোগান্তি বেড়েছে এবং কৃষকরা সার সংকটে পড়েছেন। অথচ সরকার এসব সমস্যা স্বীকার না করে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে।
নেতারা আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানও তাদের আন্দোলনের দাবির অংশ।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে জোটের নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা বলেন, ১১ দল যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে এবং বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে।
সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দলীয়করণ করা হয়েছে।
লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের শুরুতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ করা হবে।
তারা বলেন, তাদের প্রধান দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।










