spot_img
spot_img

মজলুমদের হাত দিয়ে যে আইন পাস হচ্ছে, তা গুমের পথ সুগম করবে: আরমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। মানবাধিকার ও গুম-সংক্রান্ত দুই আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, মজলুমদের হাত দিয়েই এমন আইন পাস হতে চলেছে, যা গুমের পথকে সুগম করবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জামায়াতদলীয় এই সংসদ সদস্য এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মীর আহমাদ বিন কাসেম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন। সভায় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হয়ে এবং ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে যে আইনগুলো করেছিল, সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই আইনের বদলে যে নতুন আইন আনছে, তাতে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত আইনে গুম-সংক্রান্ত কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করার পর সেই অভিযোগ আদালতে ভুল প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তার মতে, এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার অভিযোগ করতে ভয় পাবে।

মীর আহমাদ বিন কাসেম আরও বলেন, সরকারের বাইরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ না থাকলে এই আইনের মাধ্যমে বাহিনীকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ‘তোমরা যা খুশি তাই করো, তোমাদের জবাবদিহি করার কেউ নেই।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ