এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় বা ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করার লক্ষ্যে যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা ও তাদের এক ডজনেরও বেশি মিত্র দেশ। জাকার্তার পূর্বাঞ্চলের বান্দুং শহরের একটি সামরিক স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহড়ার উদ্বোধন করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রায় দুই দশক ধরে ‘সুপার গারুদা শিল্ড’ নামে পরিচিত এই যৌথ সামরিক মহড়াটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এবারের মহড়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জাপানসহ মিত্রদেশগুলোর প্রায় ৪ হাজার ৭০০ সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পয়েন্টে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। এছাড়া পূর্ব তিমুর, ইতালি ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ মহড়াটি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকা চতুর্থ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার প্যাট্রিক জে. এলিস বলেন, “ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে পারস্পরিক মানবিক ও সামরিক সহযোগিতার শক্তিশালী রূপরেখা তৈরিতে এই মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ বেশ জটিল, তাই কোনো সংকট শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি জানান, এবারের মহড়ায় শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে বিশেষ বাহিনীর অনুপ্রবেশ কৌশল এবং আধুনিক সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
গত এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়া ও আমেরিকা তাদের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ককে ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারিত্ব’ বা ‘মেজর ডিফেন্স কো অপারেশন পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। মার্কিন কমান্ডার এলিস উল্লেখ করেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব তারই ধারাবাহিকতা।
এদিকে ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে, যার মূল উদ্দেশ্য পরাশক্তি আমেরিকা ও চীন—উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা। এই নীতির অংশ হিসেবে চলতি মাসে চীনের সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয় ইন্দোনেশিয়া, যা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও এটিকে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল তাইওয়ান।
চলতি মাসেই চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া সফর করে পারস্পরিক রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘হেপিং গারুদা’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রাশিয়া ও চীন নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক জোট ‘ব্রিকস’ (BRICS) এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করেন এবং ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এ যুক্ত হন।











