সিরিয়ায় এক সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার প্রক্রিয়া, আমেরিকার সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ পড়া এবং আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, এই তিন ঘটনাকে দেশটির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে এসব পরিবর্তন ঘটে।
৪৭ বছর পর সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ
২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টেট স্পনসরস অব টেররিজম’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ার নাম বাদ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর সিরিয়াকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেন। নির্ধারিত পর্যালোচনার সময়ে কোনো আপত্তি না আসায় ২৪ আগস্ট সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়।
এর ফলে তালিকাভুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা থেকে সিরিয়া মুক্ত হয়েছে। তবে সাবেক সিরীয় সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াসর বারনিয়েহ বলেন, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় পুনঃএকীভূত করার পথ খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি আনার সুযোগ বাড়বে।
বিলুপ্ত এসডিএফ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু
২৫ আগস্ট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) প্রধান মাজলুম আবদি সংগঠনটির স্বতন্ত্র সামরিক বাহিনী হিসেবে কার্যক্রম শেষ করার ঘোষণা দেন।
২০২৫ সালের ১০ মার্চ সিরীয় সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির প্রায় ১৭ মাস পর এই ঘোষণা আসে। ওই চুক্তিতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বেসামরিক ও সামরিক কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
একই দিন দামেস্কের পিপলস প্যালেসে প্রেসিডেন্ট আহমদ আশ-শারার সঙ্গে মাজলুম আবদি ও তার প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সুসংহত করা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের অধীনে আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।
এদিকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিক্রি নম্বর ১৩-তে কুর্দি সিরীয়দের সিরীয় জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের হাসাকা আদমশুমারিকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কিছু ব্যবস্থা বাতিল, কুর্দি ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং নওরোজকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
১৫ বছর পর আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট চালু
সিরিয়ার আর্থিক খাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর দেশটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
২৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট আহমদ আশ-শারা ভিসা কার্ড ব্যবহার করে প্রথম ইলেকট্রনিক পেমেন্ট করেন। একই দিনে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়ান রাসলান মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে প্রথম লেনদেন সম্পন্ন করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন এবং আর্থিক আধুনিকায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: সানা নিউজ











