ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়াকে গ্রাস করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুতিন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে এবং সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনার বিষয়ে পুতিন বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
পুতিন বলেন, ‘আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’
তিনি বলেন, ওই দুই বিশেষ দূতের ওপর ট্রাম্পের আস্থা রয়েছে এবং তারা সরাসরি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পুতিন বলেন, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মানুষ।
এর কয়েক দিন আগে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন। সেখানে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশকেকে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। তবে বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা ‘কিছুটা হলেও স্থগিত’ রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে বিশকেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ছে।
পুতিন বলেন, আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশকেকে পুতিন ওই মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
পুতিন বলেন, আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।
রাশিয়ায় চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা নিয়োগ বা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কা নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশকেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন এমন আশঙ্কাকে ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। বৈঠকে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টকে বিশকেকে পুতিন বলেন, এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।
ইরানকে সমর্থনের বিষয়ে পুতিনের এ অবস্থানের আগে থেকেই রাশিয়া তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মধ্যেও মস্কো তেহরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
বিশকেকে এসসিও সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে সাম্রাজ্যবাদের হাঙর হিসেবে বর্ণনা করার কথা উল্লেখ করেন।
পুতিন বলেন, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলে নিচে নামিয়ে দিতে চায় এবং গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, আর এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা করতে প্রস্তুত।











