গাজ্জা নগরীর আল-জাইতুন এলাকায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
আল জাজিরা জানিয়েছে, টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার অভিযান শেষ করেন সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া সবাই মালকা পরিবারের সদস্য।
সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার কার্যক্রম তত্ত্বাবধানকারী কর্নেল মুহাম্মাদ আবু দান জানিয়েছেন, মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের মরদেহের সন্ধান করছিলেন তারা। এর মধ্যে ৫৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আল-জাইতুন এলাকায় মালকা পরিবারের ওই বাড়িতে হামলা চালায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এর আগে নিজেদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ হয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং পরিবারের বহু সদস্য নিচে চাপা পড়েন।
গাজ্জায় ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকারীদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসনে গাজ্জার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও ত্রাণ সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এখনো ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।
কর্নেল মুহাম্মাদ আবু দান আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়া গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আরও অনেকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
মালকা পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ায় তাদের সম্মিলিত জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
সূত্র : আল জাজিরা












