বাবা-মায়ের অবহেলা ও নির্যাতন রোধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সন্তানরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি চাপ প্রয়োগ করে লিখে নেওয়ার পর তাদের অবহেলা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একপর্যায়ে বড় কোনো ভবনের কোণে কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয় সেই বাবা-মায়ের। এমন ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মানুষের আত্মাকে ভেঙে দেয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে তিনি সংসদে পিতা-মাতার অধিকার সুরক্ষায় কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানার প্রস্তাবগুলো হলো:
১. অবহেলা বা নির্যাতন করলে দানপত্র বাতিলের সুযোগ
বাবা-মায়ের ভরণপোষণে অবহেলা বা নির্যাতন করলে দানপত্র একতরফাভাবে বাতিলের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন রুমিন ফারহানা। ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন বিধান যুক্ত করার কথা বলেন তিনি, যাতে সন্তান অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা নিজেই পারিবারিক আদালতে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
২. বাবা-মায়ের সম্পত্তি বন্ধক ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা
বাবা-মায়ের সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া কিংবা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ বন্ধে কঠোর বিধান করার প্রস্তাব দেন তিনি। দাতার জীবদ্দশায় তার লিখিত সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রাখা, ঋণ নেওয়া বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার কথাও বলেন রুমিন ফারহানা।
৩. সম্পত্তির দায় বাবা-মায়ের ওপর চাপানোর সুযোগ বন্ধ
সন্তান যেন বাবা-মায়ের সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে সেই ঋণের দায় বাবা-মায়ের ওপর চাপাতে না পারে এবং সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর বিধান করার প্রস্তাব দেন তিনি।
৪. দ্রুত বিচারব্যবস্থা চালু
জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন রুমিন ফারহানা।
বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ধন্যবাদও জানান রুমিন ফারহানা।












