spot_img
spot_imgspot_img

ইসরাইলি দূতাবাস উদ্বোধন হাজারো মানুষের বিক্ষোভে স্লোভেনিয়ায়

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ স্লোভেনিয়ায় ইসরাইলের প্রথম স্থায়ী দূতাবাস উদ্বোধনের প্রতিবাদে রাজধানী লুবলিয়ানায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভ ও মিছিল করেছেন। ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান জানান বিক্ষোভকারীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দূতাবাস উদ্বোধনের সময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা নতুন দূতাবাসের কাছে জড়ো হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি হোটেলের দিকে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘শান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য আমরা একসঙ্গে’ এবং ‘গণহত্যা আত্মরক্ষা নয়’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

বিক্ষোভটি আয়োজন করে ফিলিস্তিনের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দেলো জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধের দাবিতে এক হাজারের বেশি মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। অন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানিয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে স্লোভেনিয়ার নতুন সরকারের নীতির বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই ঘনিষ্ঠতা স্লোভেনিয়ার অবস্থান ও ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশা ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে আগের প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলবের নেতৃত্বাধীন সরকারের ইসরাইলবিষয়ক নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। গোলবের সরকার গাজ্জায় ইসরাইলের সামরিক হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল।

গোলব সরকারের সময়ে ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার স্লোভেনিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ছিলেন। ইয়ানশা সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব নীতির বেশিরভাগই পরিবর্তন করা হয়েছে।

জুনে স্লোভেনিয়ার দৈনিক দেলো পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ এমন সম্পর্কের পক্ষে মত দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রাজ জোরকো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির এই পরিবর্তন দেশটির জনমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের নীতির বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী ফ্রিডম মুভমেন্ট ও লেফট পার্টি। বিরোধীদের অভিযোগ, ইয়ানশার পররাষ্ট্রনীতি ইসরাইলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোনে কাজেরকেও পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে।

দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোনে কাজের বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি সংলাপ ও শক্তিশালী সহযোগিতার সূচনা করবে। অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে স্লোভেনিয়ার সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রী ইয়ানশার সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন।

ইসরাইলের দূতাবাস উদ্বোধন এমন সময়ে হলো, যখন গাজ্জায় ইসরাইলের হামলা এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে। দূতাবাস উদ্বোধনের একদিন আগে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডা দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

এসব পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে একদিকে স্লোভেনিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় শুরু হলেও অন্যদিকে গাজ্জা যুদ্ধ ও দখলকৃত পশ্চিম তীরের নীতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্র আল-জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ