দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হারেৎজ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েকদিন আগে হামাসের আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ওই প্রতিবেদনকে ‘বানোয়াট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের ঘটনার ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই দিন ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরাইলে অন্তত ১ হাজার ১৯৫ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫১ জনকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গাজ্জায় ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধে অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
হারেৎজের দাবি, মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের হুমকির কথা জানান। বন্দীবিনিময় আলোচনা আটকে থাকা এবং গাজ্জা অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ সিনওয়ার এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমিরাতকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি ‘বিশাল চমক’ প্রস্তুত করছেন এবং ইসরাইলকে ‘ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে’ বলতে বলেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও তার সহযোগীরা এটিকে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন এবং তথ্যটি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের কাছে পাঠান। তবে শিন বেত ওই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো ফোনালাপ হয়নি। এ সময়ের কল রেকর্ড পর্যালোচনা করেও এমন কোনো কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এদিকে হারেৎজ তাদের প্রতিবেদনের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রও নেতানিয়াহু ও মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে কথোপকথনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা












