spot_img
spot_imgspot_img

গাজ্জায় একই পরিবারের বাবা-মা ও দুই শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল

অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়ে একই পরিবারের বাবা-মা ও তাদের দুই শিশুকন্যাকে হত্যা করেছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উত্তর গাজ্জার বেইত লাহিয়া শহরে এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

নিহতরা হলেন এক দম্পতি এবং তাদের ৮ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে। ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের বাড়িটি সরাসরি আক্রান্ত হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই দিনে গাজ্জাজুড়ে আবাসিক বাড়িতে ইসরাইলি হামলা বেড়েছে। এ সময়ে অন্তত ছয়টি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় আশপাশের বাড়ি ও তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বাড়িতে হামলার কিছু সময় আগে বাড়ির মালিক বা প্রতিবেশীদের ফোন করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। এরপর ওই ভবনগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

বেইত লাহিয়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার বিষয়ে ইসরাইলি বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে বুধবার ইসরাইলি বাহিনী দাবি করে, গাজ্জার তিনটি এলাকায় হামলা চালিয়ে হামাসের তিনটি অস্ত্রাগার ধ্বংস করেছে তারা। এসব স্থাপনায় বিস্ফোরক ও ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাদের।

এর আগের দিন হামাস ও ইসলামিক জিহাদের আরও তিনটি অস্ত্রাগার ধ্বংসের দাবিও করে ইসরাইল।

তবে গাজ্জা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা ইসরাইলের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের হামলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বেসামরিক মানুষ ও তাদের বাড়িঘর।

২০২৫ সালের অক্টোবরে আমেরিকার সমর্থনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজ্জায় বড় আকারের যুদ্ধ বন্ধ হলেও ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি থামেনি।

গাজ্জার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ।

হামাস অভিযোগ করেছে, বারবার হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল এবং গাজ্জা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে ইসরাইলও হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

সূত্র : রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ