spot_img
spot_imgspot_img

আফগান শিক্ষার্থী বহিষ্কারকে রাজনৈতিক ও অন্যায্য বললেন পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা

পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (পিএমডিসি) আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও অন্যায্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়ে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার এবং আফগান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, জারি করা এই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর পেছনে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে বলেও মনে হচ্ছে। আমাদের একটি প্রতিবেশী মুসলিম দেশ রয়েছে, যার সঙ্গে শত শত বছর ধরে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আগ্রাসনের পর তারা বলেছিল, আফগানরা প্রায় ৪০ বছর ধরে আমাদের মধ্যে বসবাস করছে এবং এখানেই ছিল। এখন তাদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, বিশ্বাস করুন, এটি পাকিস্তানের জন্য বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, এতে পাকিস্তানেরই ক্ষতি হচ্ছে। কারণ, এই বিষয়টি একটি দেশের সফট পাওয়ারের অংশ।

এদিকে, তেহরিক তাহাফুজ আইন-এ-পাকিস্তানের মহাসচিব আসাদ কায়সারও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আফগান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন এবং বিষয়টি সিনেটে উত্থাপন করবেন বলে জানান।

আসাদ কায়সার আরও বলেন, আমি আবারও পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা পেশোয়ার হাইকোর্টেও একটি মামলা করেছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সব শিক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনাদের সমর্থনে সম্ভাব্য প্রতিটি পর্যায়ে আমরা আমাদের আওয়াজ তুলব।

প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকার মধ্যে পশতুন তাহাফুজ মুভমেন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকিম খানও জোর দিয়ে বলেছেন, শিক্ষাকে রাজনীতির শিকার করা উচিত নয়।

জাকিম খান ওয়াজির এক্সে লিখেছেন, নীতিগুলো সবার জন্য অভিন্ন ও ন্যায়সংগত হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক স্বার্থের পরিবর্তে শিক্ষাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। আফগান শিক্ষার্থীদের নিজস্ব স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য রয়েছে। অন্য সবার মতো তাদেরও শিক্ষাগ্রহণের অধিকার রয়েছে। শিক্ষার পথে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।

পাকিস্তানের কওমি ওয়াতান পার্টির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফতাব আহমদ খান শেরপাও বলেন, আফগান সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের মতপার্থক্যের কারণে আফগান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তাদের বিষয়গুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত বলেও তিনি জানান।

তিনি এক্সে লিখেছেন, “আফগানিস্তানের সরকারের সঙ্গে আমাদের যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত করে এর মূল্য দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।”

পশতুন ন্যাশনাল জিরগাও আফগান শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল ছাড়তে বাধ্য করাকে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নৈতিক নীতির প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পাকিস্তানে বছরের পর বছর পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

পশতুন ন্যাশনাল জিরগার এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, “এই শিক্ষার্থীরা কোনো অন্যায় করেনি। তারা বৈধ প্রক্রিয়া বা বৃত্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য করা নিষ্ঠুরতা, শত্রুতা ও ঔদ্ধত্যের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে আফগানিস্তানেও আফগানরা অর্থবহ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এই অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা করতে দিন।”

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এক্সে লিখেছেন, “তরুণদের শিক্ষা, একাডেমিক কার্যক্রম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতাকে দেশগুলোর রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে আলাদা রাখা উচিত।”

পাকিস্তানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থী হেজরান নাজারি বলেন, “আমাদের বহিষ্কার করা হলে আমাদের পড়াশোনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আফগান শিক্ষার্থীদের সামনে থাকা এই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে এবং এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের সহায়তা করতে আমরা দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

পাকিস্তানে কয়েকজন আফগান চিকিৎসক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাদের বহিষ্কারের পর চলতি সপ্তাহের সোমবার পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বৈধ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এর পরিবর্তে কাউন্সিল পাকিস্তানের সব মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিবন্ধিত ‘আফগান নাগরিকদের’ বর্তমান নীতি অনুযায়ী আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে বলেছে।

সূত্র : টোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ