ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের গত এক বছরে স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬০টি ক্লিনিক ও হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ করে সেগুলো চালু করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১০৩টি ক্লিনিক ও হাসপাতালের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
‘গভর্নমেন্ট ইন দ্য মিডিয়া মিরর’ অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে এসব তথ্য জানান ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
তিনি জানান, আরও ৪৫টি জেলা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রয়প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ১৯০ কোটি আফগানি ব্যয়ে অসম্পূর্ণ সাতটি প্রকল্পের জন্যও ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, কাবুলের আহমাদ শাহ বাবা হাসপাতালকে বিশেষায়িত তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের কয়েকটি বড় হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, আলট্রাসাউন্ডসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়ে ১৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিকীকরণ না করার আহ্বানও জানান তিনি।
মাওলানা মুজাহিদ জানান, গত এক বছরে সারা দেশে ৯ কোটি ৯৭ লাখ বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুনরায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে ২১ লাখের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পেয়েছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯৯ হাজারের বেশি রোগীকেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী ২১ লাখ শিশুকে পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। অপুষ্টি প্রতিরোধে ২০ লাখ মা ও শিশুকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের পেশাগত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ফার্মাসিস্টদের ১ হাজার ৭২৩টি লাইসেন্স ও পেশাগত কার্ড দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালকে ৩৪৬টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের ৬ হাজার ২৪০টি নিবন্ধন কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৩ হাজার ৪০৬ জন চিকিৎসককে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
দেশে ওষুধ উৎপাদন ৩০ শতাংশ বেড়েছে উল্লেখ করে মাওলানা মুজাহিদ বলেন, গত এক বছরে ৭ হাজারের বেশি ফার্মেসি, ৮০০টির বেশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, ৭০০টির বেশি পাইকারি বিক্রেতা এবং ৩৯০টি উৎপাদন কারখানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
একই সময়ে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন ওষুধ, স্বাস্থ্যপণ্য এবং খাদ্যপণ্যের মোট ১ হাজার ২৯৫ মেট্রিক টন ধ্বংস করা হয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত অনিয়মের ১০৭টি মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
জাতীয় পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে মাওলানা মুজাহিদ জানান, সংস্থাটি উন্নয়ন, শিল্প ও উৎপাদনসংক্রান্ত ১ হাজার ৭০০টির বেশি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। একই সময়ে সারা দেশে ফলদ ও ফলবিহীন ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে।
পরিবেশগত মানদণ্ড না মানায় কাবুল পৌরসভা ৫ হাজার ৫০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৬১৯টি পরিবেশগত অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে এবং কাবুলসহ বিভিন্ন প্রদেশে দূষণসংক্রান্ত ২৫ হাজারের বেশি কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে।
মাওলানা মুজাহিদ আরও জানান, গত এক বছরে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রামক রোগ শনাক্তে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের বিভিন্ন পরীক্ষা করেছে। ৯ হাজার মানুষের মেডিকেল কাউন্সিল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নাগরিকদের সেবা উন্নত করা এবং স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ৩৫০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
সূত্র : টোলো নিউজ












