যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডকে প্রজাতন্ত্র আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত দেখতে চান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাবলিন সফরে তিনি বলেছেন, এই একত্রীকরণ শেষ পর্যন্ত ঘটবেই এবং এখন হলেও তা ‘চমৎকার’ হবে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের টানাপোড়েনের মধ্যে ব্রিটেনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যুতে তার এমন অবস্থানকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটিকে একীভূত দেখতে চাই। শেষ পর্যন্ত এটি ঘটবেই।’ একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যেরও বক্তব্য থাকবে।
ট্রাম্পের অবস্থান সাম্প্রতিক আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের প্রচলিত নীতি থেকে ব্যতিক্রম। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির পর ওয়াশিংটন সাধারণত উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে নাকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হবে, এ প্রশ্নে সরাসরি পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত। যুক্তরাজ্যপন্থী ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতা গ্যাভিন রবিনসনও বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটন, লন্ডন বা ডাবলিন নয়, সেখানকার জনগণই নির্ধারণ করবে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়কাল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ইরান যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকা ও ইসরাইলের প্রাথমিক হামলায় যুক্তরাজ্য অংশ নেয়নি। ব্রিটিশ সরকার তখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেয়। লন্ডনের এই অবস্থানের সঙ্গে ট্রাম্প একমত ছিলেন না বলেও সে সময় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এরপর ব্রিটেনের আরেকটি স্পর্শকাতর ভূখণ্ড ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়েও ওয়াশিংটনের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। ইরান যুদ্ধে আমেরিকার পাশে না দাঁড়ানো মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য চাপের অংশ হিসেবে ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রিটেনের প্রতি আমেরিকান সমর্থন পুনর্বিবেচনার বিষয়ও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প নিজেও ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থান প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। এবার একই সফরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার পক্ষেও তিনি প্রকাশ্য অবস্থান নিলেন।
ফলে কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহে একটি ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। প্রথমে ইরান যুদ্ধে প্রত্যাশিত ব্রিটিশ সমর্থন না পাওয়া, এরপর ফকল্যান্ড প্রশ্ন এবং এবার একীভূত আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান।
সূত্র : রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস












