আল-আকসা মসজিদের খতিব শায়খ আকরামা সাবরি বলেছেন, আজ পবিত্র আল-আকসা মসজিদে যেসব হানা ও অবমাননাকর কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা মসজিদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং ‘সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়ার ইসরাইলি পরিকল্পনার অংশ। একই সঙ্গে মসজিদের ব্যবস্থাপনা থেকে ইসলামি ওয়াকফ বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা চলছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাফা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ সাবরি বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো আল-আকসা মসজিদের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করে এর ওপর ‘সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কুদসের ইসলামি পরিচয়ও পরিবর্তন করতে চায় তারা।
তিনি বলেন, আল-আকসায় হানা দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ইহুদি ধর্মীয় উৎসবগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। দখলদাররা এসব উৎসবকে আল-আকসা মসজিদ নিয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শায়খ সাবরি চলমান ঘটনাকে ‘উসকানিমূলক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দখলদার কোনোভাবেই আল-আকসা মসজিদের ওপর কোনো অধিকার অর্জন করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপ ইসরাইলি উগ্র ডানপন্থীদের সন্তুষ্ট করার অংশ এবং নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবেও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা ইহুদিদের ফিলিস্তিনে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শায়খ সাবরি আল-আকসা মসজিদ যে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন। বিশেষ করে চলতি মাস ও আগামী মাসে আরও কয়েকটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সামনে থাকায় তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব উৎসবকে তারা মসজিদের ভেতরে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে।
তিনি আরও জানান, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, “প্রকাশ্যে দলবদ্ধভাবে তালমুদীয় প্রার্থনা করা, দখলদার বাহিনীর পতাকা উত্তোলন, শোফার বা ধর্মীয় শিঙ্গা বাজানো, পবিত্র মসজিদের ভেতরে উদ্ভিদজাত বলির সামগ্রী প্রবেশ করানো এবং এ ধরনের আরও ইহুদি ধর্মীয় আচার পালন।”
আল-আকসার ভেতরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ইসরাইলি ডানপন্থীদের বারবার দেওয়া আহ্বান সম্পর্কে তিনি বলেন, এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মসজিদের ওপর ‘সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়া এবং ওয়াকফ বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। তিনি এটিকে ভয়াবহ আগ্রাসী ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন।
শায়খ সাবরি আল-আকসায় আসা মুসল্লিদের ওপর দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথাও তুলে ধরেন। বসতিস্থাপনকারীদের আল-আকসায় হানার সঙ্গে একই সময়ে মুসল্লিদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, দখলদার ইসরাইলি বাহিনী কুদস শহর, পুরনো শহর এবং এর প্রবেশপথগুলোতে কঠোর চেকপোস্ট বসিয়েছে। পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদের বাইরের ফটকগুলোতেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুদস শহর ও আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য মুসলমানদের আল-আকসায় পৌঁছাতে বাধা দেওয়া।
মুসলমানদের উদ্দেশে শায়খ সাবরি বলেন, “আমাদের শরিয়তসম্মত অধিকার সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে প্রাপ্ত।” তিনি মুসলমানদের আল-আকসা মসজিদের উদ্দেশে সফর করার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুসলমানরা আল-আকসা মসজিদ ত্যাগ করবে না। কারণ, এটি তাদের আকিদার অংশ।
দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় আল-আকসার খতিব আরও বলেন, “আপনারা যতই দমনমূলক কর্মকাণ্ড চালান এবং যতই অহংকার ও ঔদ্ধত্য ব্যবহার করেন না কেন, এসব কর্মকাণ্ড আপনাদের আল-আকসার ওপর কোনো অধিকার এনে দেবে না।”
রোববার সকালে ৪৮০ জনের বেশি দখলদার অবৈধ বসতিস্থাপনকারী উগ্র ইহুদি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মাগারিবা ফটক দিয়ে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। তারা মসজিদের প্রাঙ্গণে তালমুদীয় ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা পালন করে।
এর আগে উগ্র ‘টেম্পল গ্রুপগুলো’ রোববার আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে শোফার বা ধর্মীয় শিঙ্গা বাজানোর জন্য অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের উসকানি দিয়েছিল।
অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের লঙ্ঘন ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আল-আকসা মসজিদে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। মসজিদে প্রবেশকারী বসতিস্থাপনকারীদের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে তালমুদীয় ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে সেখানে নতুন ইহুদিকরণমূলক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: সাফা নিউজ এজেন্সি












