spot_img
spot_img

ইসরাইলি অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব নরওয়ের

পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলের অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে নরওয়ে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো পশ্চিমা দেশের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি হবে এটি।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে (এনআরকে) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি শরৎকালেই নরওয়ের পার্লামেন্ট প্রস্তাবটি অনুমোদন করবে। প্রস্তাবটি নিয়ে জনসাধারণের মতামত গ্রহণের সময়সীমা ১৯ সেপ্টেম্বর।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, নরওয়ের বিবেচনায় ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবস্থিত ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এর আওতায় বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি, সেখানে পণ্য রপ্তানি, বসতিগুলোতে সম্পত্তি ক্রয় এবং নির্মাণ, প্রকৌশল, স্থাপত্য ও রিয়েল এস্টেট-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় পূর্ব জেরুজালেমের ইসরাইলি বসতিগুলোও পড়তে পারে।

এইডে জানান, নরওয়ে ও ইসরাইলি বসতিগুলোর মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এর মধ্যে মদ ও কৃষিপণ্যের মতো পণ্যের বাণিজ্য রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি এই উদ্যোগের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপে ইউরোপজুড়ে বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে নরওয়ের এই প্রস্তাব সামনে এসেছে।

এর আগে ব্রিটেন ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশও একই ধরনের পদক্ষেপ বা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

এইডে বলেন, আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলকে ঘিরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাম্প্রতিক ইউরোপীয় উদ্যোগগুলোর বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছে।

এইডে এই উদ্যোগকে আরও বৃহত্তর একটি প্রবণতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে মনে করলে মধ্যম আকারের দেশগুলো নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নরওয়ের প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং কার্যকর হয়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর জনমত গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। প্রস্তাবিত বর্তমান রূপে আইনটি অনুমোদিত হলে বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর হবে।

সূত্র : সাফা নিউজ এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ