ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে মরক্কো। আমেরিকার মধ্যস্থতায় দুই দেশ তাদের বিদ্যমান কূটনৈতিক মিশনকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করা এবং পরস্পরের দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠকে অংশ নেন মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা, ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূতাবাস চালুর পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সফরের বিষয়েও সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও দ্বৈত কর পরিহারসংক্রান্ত দুটি চুক্তি চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আমেরিকা ও ইসরাইল পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি নিজেদের স্বীকৃতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মরক্কোর প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকেও সমর্থন জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয় মরক্কো। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে আমেরিকা পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
তবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরুদ্ধে মরক্কোয় ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানী রাবাতে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা। তাঁরা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, দেশটিতে ইসরাইলের যোগাযোগ কার্যালয় বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষার দাবি জানান।
এমন পরিস্থিতিতেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করার নতুন সিদ্ধান্ত এলো। তবে দূতাবাস চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র : আল-জাজিরা











