দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বাহিনীর হামলায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু এবং গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলেও রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গাজ্জার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে সকালে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত হওয়ার পর ১০ বছর বয়সী শিশুটি মারা যায়।
একই দিন মন্ত্রণালয় আরও জানায়, উত্তর গাজ্জার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় বাসির আল-বার্শ নিহত হয়েছেন। তিনি গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলে।
ছেলের জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনির আল-বার্শ বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘ইসরাইলের অপরাধেরই ধারাবাহিকতা’। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তাঁর এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গাজ্জা সিটির কাছে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
হামলার বিষয়ে এএফপি দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি তারা।
গত বছরের অক্টোবরে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এরপরও গাজ্জায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আল-জাজিরার হিসাবে এ সংখ্যা ১ হাজার ৩৯০ জন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করার অঙ্গীকার করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, হামাস তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজ্জা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে না।
ইসরাইলি সরকারি হিসাবের ভিত্তিতে এএফপির হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজ্জায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন।
এর জবাবে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলায় গাজ্জার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিহতের পরিসংখ্যান সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের বাহিনীর পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন।
সূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, আনাদোলু











