দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও দেশটিকে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও জবাবদিহির বাইরে রেখে ইরানের ওপর নিয়মিত পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বৈত নীতি’ পরিত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, কেবল কথার মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি পরিত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে ইসরাইলের হাতে। অথচ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের দাবি জানানো হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইসরাইল গাজ্জায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। আর আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই ইরানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এ বক্তব্যে তিনি গাজ্জায় নিহতের সংখ্যা ও ইরানে হামলার বিষয়টি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী নয়। তিনি বলেন, ইসরাইল কখনো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তার পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বিপরীতে ইরান নিয়মিত আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এরপরও ইসরাইলকে বিনামূল্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে দেশটি সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বৈপরীত্য হিসেবে তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, আমি আবারও বলছি, পরমাণু বোমা ইসরাইলে, কিন্তু পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরাইল হত্যা করে, আর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
সূত্র : প্রেস টিভি, আল জাজিরা











