রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের স্থায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করতে আঙ্কারা তার সক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কের তুর্কি হাউস বা তুরকেভিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন এরদোগান। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে এরদোগান বলেন, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের কাছ থেকে তুরস্ক দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যাতে স্থায়ী শান্তির মাধ্যমে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে আঙ্কারা তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
কৃষ্ণসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এরদোগান। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা “কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং তা মেনে নেওয়া যায় না। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে এরদোগান উল্লেখ করেন।
এরদোগান জেলেনস্কিকে জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আঙ্কারা কাজ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, কৌশলগত বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ালে দুই দেশের অর্থনৈতিক একীকরণ এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সমবেত হওয়ার সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত তৃতীয় বছরে প্রবেশ করলেও এখনো এর কোনো সুস্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : ইয়েনি শাফাক











