spot_img
spot_img

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকতে সৌদি সেনাদের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতীর

ইরান-সমর্থিত হুথিদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে সৌদি আরবের সেনাদের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী শায়খ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের উদ্দেশে এই বিরল ও কঠোর ভাষার বার্তা দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তাটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগ এবং তাঁর দ্বীনের প্রতিরক্ষায় সংগ্রাম সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই মহান দেশকে রক্ষা করা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিতেও হাত দিতে চায় এমন যেকোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া মহান দায়িত্ব ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এসব কাজে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের কর্তৃত্ব পুরো দেশের ওপর প্রতিষ্ঠা করা “সবচেয়ে জরুরি দায়িত্বগুলোর অন্যতম”।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সহিংসতা বাড়ছে। এ সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জবাবে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

দুই সপ্তাহ আগে ওই সরকারি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব জলপথের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছে হারিয়েছে। সৌদি আরবের জন্য এটি একটি বড় আঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুথিদের উৎখাতের লক্ষ্যে একটি ব্যর্থ অভিযান শুরু করার পর থেকেই সৌদি আরব এই সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই লড়াই ইয়েমেনে চলমান ১২ বছরের গৃহযুদ্ধের সর্বশেষ অধ্যায়। ২০২২ সাল থেকে এই সংঘাত অনেকটাই স্থবির ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং বৃহত্তর ইরান যুদ্ধের সঙ্গে এর যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাদের সবাইকে তাঁর সাহায্য দান করেন এবং আমাদের দেশগুলো ও প্রিয় ইয়েমেনকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। একই সঙ্গে আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন হুথি গোষ্ঠী এবং তাদের সহযোগিতা ও সমর্থনকারীদের সম্পূর্ণ পরাজয় ঘটান।”

গ্র্যান্ড মুফতীর এই চিঠি রক্ষণশীল সুন্নি মুসলিম দেশ সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের হুথিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা ধর্মকেন্দ্রিক বয়ানের ধারাবাহিকতা। হুথিরা ইসলামের একটি ভিন্ন মতপন্থী সম্প্রদায়ের অনুসারী।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুথিদের কথিত হামলার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ হুথিদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কায় হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মুখসারিতে দায়িত্ব পালনকারী ভাইয়েরা, আপনাদের ওপর দায়িত্ব হলো সবসময় নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের আনুগত্য করা এবং সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। মহান আল্লাহ তাঁর নবীর সাহাবিদেরও এভাবেই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আপনারা মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করছেন।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ