spot_img
spot_img

ফিলিস্তিনি বন্দি হাসান সালামাকে বেন গাভিরের হত্যার হুমকি, জরুরি হস্তক্ষেপ চায় প্রিজনার স্টাডিজ সেন্টার

ফিলিস্তিনি বন্দি হাসান সালামাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিন প্রিজনার স্টাডিজ সেন্টারের প্রধান রিয়াদ আল-আশকার। তিনি বলেন, দখলদার সরকারের উগ্র মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের এই হুমকি নির্বাচনী উদ্দেশ্যে করা লোকদেখানো প্রদর্শনী হলেও তার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

শিহাব নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আল-আশকার বলেন, বেন গাভির কারাগারগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান ব্যক্তি। তিনি কয়েক বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও ভয়াবহ উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর ফলে বন্দিদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি বন্দি আন্দোলনের ইতিহাসে নজিরবিহীন পর্যায়ে নেমে গেছে। বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইন অনুমোদনের পেছনেও তিনি রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা একজন নিরস্ত্র বন্দিকে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি তিনি একাকী বন্দিত্বে কাটিয়েছেন। এটি এমন একটি অপরাধী ও বর্ণবাদী মানসিকতার প্রকাশ, যেখানে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। একই সঙ্গে এটি ভুল জায়গায় শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা। কারণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি ও সনদের অধীনে ওই বন্দি সুরক্ষিত।

আল-আশকার বলেন, বন্দি হাসান সালামাকে দেওয়া এই হুমকি তার জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের আশঙ্কার সংকেত দিচ্ছে। বিশেষ করে দখলদার কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বন্দিদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রয়েছে। তাকে এর আগে ১২ বছরেরও বেশি সময় কঠিন পরিস্থিতিতে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছিল। তাকে ভেঙে ফেলা, মনোবল দুর্বল করা এবং শাস্তি দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, দখলদার ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেন গিভির বন্দিদের বিরুদ্ধে তার লঙ্ঘন ও নিপীড়ন আরও বাড়াতে পারেন এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারেন বলে তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন।

তিনি বলেন, “আর আজ তিনি বন্দি আন্দোলনের একজন নেতার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন। এই হুমকি শুধু বন্দি হাসান সালামার বিরুদ্ধে নয়, বরং দখলদার কারাগারে থাকা সব বন্দির বিরুদ্ধে। বিশেষ করে যারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত, তাদের বিরুদ্ধে।”

আল-আশকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধী বেন গিভিরের বাড়াবাড়ি এবং কারাগারে থাকা বন্দিদের জীবন নিয়ে তার প্রকাশ্য ও সরাসরি হুমকি বন্ধ করতে হবে।

তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পরিচয় জানা ৯২ জন বন্দিকে হত্যার জন্য বেন গিভিরকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, শাবাকের জিজ্ঞাসাবাদকারীদের প্রাণঘাতী নির্যাতন পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়ার মাধ্যমে বেন গিভির এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি বন্দিদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতিও ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে। তাদের জীবনধারণের সব মৌলিক উপকরণ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। গত তিন বছরে চিকিৎসায় অবহেলা ও অনাহারের নীতি আরও ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে আরও কয়েক ডজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

আল-আশকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি বেন গিভিরকে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। কারাগারে বন্দিদের হত্যা ও তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর ক্ষেত্রে সরাসরি দায়বদ্ধতার কারণে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে উগ্রপন্থী ইতামার বেন গিভির রাতে বন্দি হাসান সালামার সেলে প্রবেশ করেন এবং কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেন। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে দখলদার কারাগারগুলোতে চলমান নিপীড়নমূলক নীতির ধারাবাহিকতায় এটি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ।

দখলদার কারাগারগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা ও নিপীড়ন চলার মধ্যেই এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। বেন গিভির বন্দিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতিগুলোর ওপর সরাসরি তদারকি অব্যাহত রেখেছেন। এতে কারাগারগুলোর ভেতরের পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সূত্র : শিহাব নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ