spot_img
spot_img

প্রতিবেশীর দায়িত্ব শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, সার্বভৌমত্বও সম্মান করতে হবে: পাটওয়ারী

প্রতিবেশীর দায়িত্ব কেবল ক্ষমতাচ্যুত কোনো শাসককে আশ্রয় দেওয়া নয়, বরং প্রতিবেশী দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বকেও সমানভাবে সম্মান করা। ঢাকার ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াকে ভারত ‘প্রতিবেশী হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব’ বলে দাবি করলেও গত এক দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথাও এতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা ও সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এমনকি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২১টি সীমান্ত সহিংসতায় ১০ জন বাংলাদেশি নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বাঙালি বাসিন্দাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কর্তৃক নথিবদ্ধ হয়েছে।

সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও নিরস্ত্র মানুষের জীবন রক্ষায় এই দায়িত্ব কেন প্রযোজ্য নয়, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বজায় থাকবে। তবে তার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও ন্যায্য স্বার্থ। ‘অখণ্ড ভারত’ বা আধিপত্যবাদী যেকোনো রাজনৈতিক কল্পনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

স্ট্যাটাসে নদীর ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যে ভারসাম্য এবং গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়নসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো চাপিয়ে না দিয়ে সমতার ভিত্তিতে আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পরিশেষে বলা হয়, বাংলাদেশ কোনো অধীনস্থ ভূখণ্ড বা কারও ‘পিছনের উঠান’ নয়। ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক “বড় ভাই–ছোট ভাই” নয় বরং দুই সার্বভৌম প্রতিবেশীর সমান মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ