spot_img
spot_img

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআই ইলিয়াস

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’ বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘুষ নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার তদন্তে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ঘুষ ছাড়া তিনি মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না। এর আগে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাফিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাব।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ