spot_img
spot_img

আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) তেহরানে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিদিন হত্যা, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকির পথ অনুসরণ করা এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কোনো অর্থ নেই। ইরানের জনগণও এমন পদ্ধতি মেনে নেবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে বসার পরও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এ কারণে আমেরিকা প্রকৃত অর্থে সংলাপ চায় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত আলোচনার পর তিনবার ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সোমবার ইউরোপ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং ওয়াশিংটন তা মেনে চলবে। তবে এ বিষয়ে সামরিকভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা বিস্তারিত জানাননি তিনি।

হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি বলেন, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আগের সংঘর্ষে হুথিদের কাছে হারানো এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন রুবিও। তাঁর ভাষ্য, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে। স্থানীয় বাহিনীর পাল্টা অভিযানকে তিনি প্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি সানা পুনর্দখল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক গঠন ‘ভাই ও বন্ধুদের’ সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করবে।

হুথি বাহিনী ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে ধুবাব এলাকা ও বেশ কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। রোববার ও সোমবারের অভিযানে ওই এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তাও ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত অভিযানে সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।

সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ন্যাশনাল

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ