spot_img
spot_img

নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ বলায় ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি সাআসের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে অপমান এবং তাকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নেকাব পরার কারণে ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের সামনে বসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে তার ধর্মীয় অনুশীলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে মন্তব্য করা হয়। এর প্রতিবাদে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।

সাধারণ আলেম সমাজ বলছে, নেকাব, হিজাব বা ধর্মীয় অনুশীলনকে প্রমাণ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার কাঠামোর ভেতর থেকে এমন আচরণ একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয়, মর্যাদা ও সমান নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত।

তাদের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার জায়গা নয়। নেকাব পরা কোনো অপরাধ নয় এবং ধর্মীয় অনুশীলন সন্ত্রাসবাদের আলামত নয়। কোনো শিক্ষক কোনো ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে একমত না হলেও শিক্ষার্থীকে অপমান, হেয় করা কিংবা প্রমাণ ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার অধিকার রাখেন না।

সাধারণ আলেম সমাজ আরও বলেছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও নাগরিক অপমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের নতুন প্রত্যয় তৈরি করেছে। সেই জুলাই-উত্তর বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিককে অপমান বা বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ও এর বাইরে নয়।

সাধারণ আলেম সমাজের দাবি হলো:

১. অবিলম্বে তদন্ত করে বিষয়টি আমলে নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। গুরুতর অসদাচরণ প্রমাণিত হলে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও অনুশীলনের কারণে শিক্ষার্থীদের বৈষম্য ও হয়রানি থেকে সুরক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. নেকাব বা হিজাবকে প্রমাণ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করাকে ‘একাডেমিক মতামত’ হিসেবে বৈধতা দেওয়া যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ইসলামোফোবিয়া ও ধর্মীয় বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।

৪. সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাধারণ আলেম সমাজ বিশ্বাস করে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশে মুসলিম শিক্ষার্থী নেকাব পরে, হিন্দু শিক্ষার্থী নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ পরিচয় নিয়ে সমান মর্যাদায় জ্ঞানচর্চা করবেন। এটাই শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক চিত্র।

তাদের মতে, জুলাই-উত্তর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান ও যুক্তিচর্চার জায়গা, ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক অপমানের জায়গা নয়। ইসলামোফোবিয়া কোনো একাডেমিক অধিকার নয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর মর্যাদার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ