সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে দেশটির সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, সৌদি আরব নিজেই বর্তমানে সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে আলোচনার পরিবেশ কিছুটা কঠিন হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসী কর্মী নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংগঠন রামরুর একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর আগেও প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে তারা যেন নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু গত রোববারের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে সব সময়ই আন্তরিকতা দেখিয়ে থাকে। বর্তমানে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তাদের বিষয়েও আগের মতো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে তারা ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।
তিনি বলেন, রিয়াদে বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গুরুতর হতাহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যুদ্ধপরিস্থিতির শুরু থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। এই দুর্যোগের দিনে শুধু তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া নয়, তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ও আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু বিদেশি কোম্পানি তাদের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে নিবন্ধনভুক্ত কোনো কর্মী প্রবাসে মারা গেলে সরকার প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।











