spot_img
spot_img

প্যারিস শিগগিরই মুসলিম নগরী হবে, ম্যাক্রোঁকে ট্রাম্পের কড়া আক্রমন

ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য দেশটির অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে প্যারিস খুব শিগগিরই একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে অভিবাসন নীতির সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম নগরী হতে চলেছে এবং এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আপনি পুরো বিশ্ব থেকে মানুষকে ঢোকার পথ খুলে দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষ সেখানে চলে আসছে।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আপনি একটা বিরাট ভুল করছেন।

ট্রাম্প বলেন, আমি তাকে আট বা নয় বছর ধরে চিনি। প্রথম দেখা হওয়ার সময়ই আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি একটা বিরাট ভুল করছেন। আমরা আমাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছি, কিন্তু তিনি তা করেননি।

ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, সরকারি সেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে কয়েকটি শহরে এসব বিক্ষোভ সহিংসতা, সংঘর্ষ ও লুটপাটে রূপ নেয়।

সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক সিটি হলেও আগুন দেওয়া হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিস, লিল ও নিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ ও সমাবেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তবে ফ্রান্সজুড়ে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা এখনও জারি করা হয়নি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বৈধ দাবির সঙ্গে সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িতদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প ফ্রান্সের এই অস্থিরতাকে সরাসরি দেশটির অভিবাসন নীতির সঙ্গে যুক্ত করছেন। তিনি দাবি করেছেন, ম্যাক্রোঁ তার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন। তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি সেবার অবনতি, শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক চাপসহ একাধিক কারণ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ