ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলাম প্রশিক্ষণ শিবিরে এ হামলা চালানো হয় বলে শাবওয়া প্রদেশের গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির জানিয়েছেন।
গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির জানান, হামলার পর আরও ১৪ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ চলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা।
রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে হামলার পর আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রশিক্ষণ শিবিরটি সৌদি বাহিনী পরিচালনা করছিল। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শাবওয়া ইয়েমেনের দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলের একটি জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ। সেখানে দেশটির সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগ বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা রয়েছে।
সেপ্টেম্বর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় হুথিদের অগ্রযাত্রাকে কেন্দ্র করে হুথি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। চলতি মাসে সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলের অভিযান শুরু করেছে।
ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতেরও একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের পর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা চলতি বছর পর্যন্ত বহাল ছিল।
সূত্র: রয়টার্স











