spot_img
spot_img

ইরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান

তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে জানিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তেহরানের এ অবস্থান দেশটির অনড় অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী। এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে ইসলামাবাদ স্মারকটি ভেঙে পড়ে।

আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য গত মাসে ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছে, ওয়াশিংটন সেগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরানের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবে না।

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকার অবরোধ বন্ধ করা, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।

ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মুহসেন রেজায়িও আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে একই ধরনের বার্তা দেন। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

রেজায়ি আরও বলেন, সমৃদ্ধ করা সব পারমাণবিক উপাদান ইরানেই থাকবে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। খামেনির অবস্থান হলো, অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো উচিত নয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, আমেরিকার দাবি পূরণ এবং দুই দেশের আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল, আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তারা এর প্রমাণ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে। এই মাত্রা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র : রয়টার্স, নূরনিউজ, আরিয়ানা নিউজ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ